যাদের মুখে মধু অন্তরে বিষ তাদের পরিণতি কী হয় জানতে পারবেন নিচের গল্প ৩টির মাধ্যমে।
খুবই শিক্ষণীয় গল্প ০১
খুবই শিক্ষণীয় গল্প ০২
একবার এক জঙ্গলে একটা বানর থাকত। সে নদীর ধারে একটা জামগাছে বাস করত। গাছে প্রচুর মিষ্টি জাম ধরত। একদিন একটা কুমির নদীর তীরে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিল। দয়ালু বানরটা তাকে কিছু জাম দিল। কুমিরের খুব ভালো লাগল সেই জামের স্বাদ। পরের দিন আবার এল আরও জামের জন্য। এভাবে ধীরে ধীরে বানর আর কুমিরের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হয়ে গেল।
কুমির প্রায়ই তার স্ত্রীর কথা বলত বানরকে। একদিন কুমিরের স্ত্রী বলল, “ওগো, তোমার সেই বন্ধু বানরের জামগুলো এত মিষ্টি যে আমারও খুব খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি ইচ্ছে করছে তার হৃদয় খেতে। শুনেছি বানরের হৃদয় খেলে অনেক রোগ সেরে যায় আর দীর্ঘায়ু হওয়া যায়। তুমি কোনোভাবে তার হৃদয়টা এনে দাও না!”
কুমির প্রথমে রাজি হল না। কিন্তু স্ত্রী বারবার অনুরোধ করতে লাগল। অবশেষে কুমির রাজি হয়ে গেল। পরের দিন সে বানরকে বলল, “আমার বাড়ি চলো না আজ। আমার স্ত্রী তোমার সঙ্গে দেখা করতে চায়। তোমার দেওয়া জামের কথা এত শুনেছে যে তোমাকে ধন্যবাদ দিতে চায়।”
বানর খুশি হয়ে রাজি হল। কুমিরের পিঠে চড়ে নদী পার হয়ে তার বাড়ির দিকে রওনা দিল। নদীর মাঝখানে এসে কুমির হঠাৎ থেমে গেল। বানর জিজ্ঞেস করল, “কী হলো বন্ধু? থেমে গেলে যে?”
কুমির বলল, “আসলে আমি তোমাকে মিথ্যে কথা বলেছি। আমার স্ত্রী তোমার জাম খেতে চায় না। সে তোমার হৃদয় খেতে চায়। তাই আমি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি যাতে তার ইচ্ছে পূরণ করতে পারি।”
বানর ভয় পেয়ে গেল, কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে শান্ত গলায় বলল, “ওরে বোকা বন্ধু! তুই তো আমাকে আগে বলিসনি। আমি তো আমার হৃদয়টা গাছে ঝুলিয়ে রেখে এসেছি! বানররা তো হৃদয় গাছে রেখে বাইরে ঘুরে বেড়ায়। চল, ফিরে গিয়ে হৃদয়টা নিয়ে আসি। তোর স্ত্রীকে দিবি।”
কুমির বোকা, সত্যি বিশ্বাস করে ফিরে গেল তীরে। তীরে পৌঁছতেই বানর লাফ দিয়ে গাছে উঠে পড়ল আর হেসে বলল, “এই বোকা কুমির! হৃদয় গাছে ঝোলে নাকি? তুই তোর স্ত্রীর কথায় আমাকে মারতে চেয়েছিলি। এখন থেকে আর কখনো তোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করব না। যা, তোর ধূর্ত স্ত্রীর কাছে যা!”
কুমির লজ্জায় মাথা নিচু করে চলে গেল। আর বানর নিরাপদে গাছে বসে জাম খেতে লাগল।
নীতি: যে বন্ধু মুখে মিষ্টি কথা বলে কিন্তু মনে অন্য চিন্তা করে, সে কখনো প্রকৃত বন্ধু নয়। কপট লোকের সঙ্গে সাবধানে মিশতে হয়, নইলে বিপদে পড়তে হয়।
স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রাখার অবিশ্বাস্য উপায় জানতে ভিজিট করুন
খুবই শিক্ষণীয় গল্প ০৩
একবার একটা শিয়াল জঙ্গলে খাবারের খোঁজে ঘুরছিল। অনেক খুঁজেও কিছু পেল না। হঠাৎ দেখল একটা ডুগডুগি বাজছে আর গানের আওয়াজ আসছে। কাছে গিয়ে দেখে একটা সাধু বাবা গাছতলায় বসে ভক্তি গান গাইছেন আর সামনে একটা ঝুড়িতে অনেক মিষ্টি, ফল আর খাবার রাখা।
শিয়ালের মুখে জল এসে গেল। সে ভাবল, “এই বুড়ো বাবাকে একটু ভয় দেখালেই সব খাবার আমার হয়ে যাবে।” তাই সে গর্জন করে এগিয়ে গেল আর বলল, “এই বুড়ো! তোর এত সাহস যে আমার জঙ্গলে বসে আছিস? তুই জানিস না এটা আমার এলাকা? এখনই তোর সব খাবার আমাকে দে, নইলে তোকে ছিঁড়ে খাব!”
সাধু বাবা শান্তভাবে শিয়ালের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বাছা, তুমি এত রেগে যাচ্ছ কেন? আমি তো তোমারই অতিথি। আমার কাছে যা আছে সব তোমার জন্যই। কিন্তু একটা শর্ত আছে।”
শিয়াল অবাক হয়ে বলল, “কী শর্ত?”
সাধু বললেন, “তুমি তো জঙ্গলের রাজা। তোমার তো খুব গলার আওয়াজ। আমি শুনেছি শিয়ালের চিৎকারে সারা জঙ্গল কেঁপে ওঠে। তুমি একবার তোমার সবচেয়ে জোরে চিৎকার করে দেখাও। যদি আমার মন ভরে যায়, তাহলে এই ঝুড়ির সব খাবার তোমাকে দিয়ে দেব।”
শিয়ালের অহংকারে বুক ফুলে উঠল। সে ভাবল, “এ তো সোজা কাজ!” তাই সে পিছিয়ে গিয়ে মুখটা আকাশের দিকে তুলে সবচেয়ে জোরে চিৎকার করল—“ইয়াওওওওওওওওওও!”
এদিকে সাধু বাবা আগে থেকেই জঙ্গলের শিকারিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে রেখেছিলেন। শিকারিরা কাছেই লুকিয়ে ছিল। শিয়ালের সেই ভয়ংকর চিৎকার শুনে তারা ছুটে এল আর ফাঁদে ধরে ফেলল শিয়ালকে।
শিয়াল যখন ফাঁদে আটকে ছটফট করছে, তখন সাধু বাবা শান্ত গলায় বললেন, “বাছা, অহংকার আর লোভ মানুষকেও ধ্বংস করে, পশুকেও। তুমি আমাকে ভয় দেখাতে এসেছিলে, কিন্তু তোমার অহংকারই তোমাকে ধরা দিল।”
শিকারিরা শিয়ালকে নিয়ে চলে গেল। আর সাধু বাবা আবার নির্বিঘ্নে তাঁর ভজন চালিয়ে গেলেন।
দরিদ্র হওয়ার কারণ ও তার প্রতিকার জানতে ভিজিট করুন
নীতি: মুখে যতই বড় বড় কথা বলা যায়, কিন্তু লোভ আর অহংকারের ফাঁদে পা দিলে নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে আনে। কপটতা আর প্রতারণা করে কেউ কখনো স্থায়ী লাভ করতে পারে না।






































































































































































































































