এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?
এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) হলো একটি অনলাইন-ভিত্তিক আয়ের মডেল, যেখানে আপনি অন্য কোনো কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের পণ্য বা সেবা প্রচার করে বিক্রি করেন এবং প্রতিটি বিক্রয়ের বিনিময়ে কমিশন পান। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি এক ধরনের পারফরম্যান্স-ভিত্তিক মার্কেটিং—যেখানে আপনার নিজের কোনো পণ্য তৈরি করতে হয় না, শুধু প্রমোট করলেই হয়।
এফিলিয়েট মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে?
প্রক্রিয়াটি মূলত চারটি অংশ নিয়ে গঠিত:
- মার্চেন্ট (Merchant/Seller): যে কোম্পানি পণ্য বা সেবা বিক্রি করে (যেমন: Amazon, Daraz, বা অন্যান্য ই-কমার্স সাইট)।
- এফিলিয়েট (Affiliate/You): আপনি, যিনি পণ্য প্রমোট করেন (ব্লগ, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদির মাধ্যমে)।
- কাস্টমার (Customer): যে ব্যক্তি আপনার লিঙ্ক থেকে পণ্য কেনে।
- নেটওয়ার্ক (Optional): মাঝখানে একটি প্ল্যাটফর্ম যা ট্র্যাকিং করে (যেমন: Amazon Associates, ClickBank)।
- আপনি একটি বিশেষ এফিলিয়েট লিঙ্ক পান।
- এই লিঙ্ক শেয়ার করেন (ব্লগ পোস্ট, ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়ায়)।
- কেউ লিঙ্কে ক্লিক করে পণ্য কিনলে, আপনি কমিশন পান (সাধারণত ৫-৫০% পর্যন্ত, পণ্যের উপর নির্ভর করে)।
সুবিধা:
- কম খরচে শুরু করা যায় (কোনো প্রোডাক্ট স্টক বা শিপিংয়ের ঝামেলা নেই)।
- ঘরে বসে প্যাসিভ ইনকাম (একবার কনটেন্ট তৈরি করলে দীর্ঘদিন আয় হতে পারে)।
- বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়: Amazon, Shopify, বাংলাদেশে Daraz বা ১০ মিনিট স্কুলের মতো প্রোগ্রাম আছে।
অসুবিধা:
- শুরুতে ট্রাফিক (ভিজিটর) তৈরি করতে সময় লাগে।
- কমিশন শুধু বিক্রি হলে পাওয়া যায়, গ্যারান্টি নেই।
- কাঁচা মরিচের পুষ্টিগুণ জানতে ভিজিট করুন
যদি শুরু করতে চান, তাহলে একটি নিশ (বিষয়) সিলেক্ট করুন, ব্লগ/ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করুন এবং জনপ্রিয় প্রোগ্রামে জয়েন করুন। এটি একটি দারুণ অনলাইন আয়ের উপায়, কিন্তু ধৈর্য এবং কনসিসটেন্ট কাজ দরকার!
এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ড্রপশিপিং এর মধ্যে পার্থক্য
এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ড্রপশিপিং দুটোই জনপ্রিয় অনলাইন ব্যবসার মডেল, যা ঘরে বসে আয় করার সুযোগ দেয়। কিন্তু এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। নিচে সংক্ষেপে তুলনা করা হলো:
মূল পার্থক্যসমূহ (তুলনামূলক টেবিল):
বিষয় এফিলিয়েট মার্কেটিং ড্রপশিপিং ব্যবসার ধরন অন্যের পণ্য প্রমোট করে কমিশন পাওয়া নিজের অনলাইন স্টোরে পণ্য বিক্রি করা (স্টক ছাড়া) পণ্যের মালিকানা কোনো পণ্যের মালিক হতে হয় না পণ্য বিক্রি করেন, কিন্তু স্টক রাখেন না প্রাথমিক খরচ খুব কম (ব্লগ/চ্যানেল তৈরি করতে হয়) মাঝারি (ওয়েবসাইট, অ্যাডভার্টাইজিং খরচ) ঝুঁকি কম (কোনো ইনভেন্টরি বা শিপিংয়ের ঝামেলা নেই) মাঝারি (কাস্টমার সার্ভিস, রিফান্ড, সাপ্লায়ারের উপর নির্ভর) আয়ের উৎস প্রতি বিক্রয়ে কমিশন (৫-৫০%) পণ্যের মার্কআপ প্রাইস (পুরো প্রফিট মার্জিন) দায়িত্ব শুধু প্রমোশন এবং ট্রাফিক জেনারেট করা অর্ডার প্রসেসিং, কাস্টমার সাপোর্ট, মার্কেটিং স্কেল করা সহজ (প্যাসিভ ইনকাম সম্ভব) কঠিন (অর্ডার বাড়লে কাস্টমার সার্ভিস বাড়ে) উদাহরণ প্ল্যাটফর্ম Amazon Associates, ClickBank, Daraz Affiliate এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের প্রক্রিয়া (সংক্ষেপে):
আপনি লিঙ্ক শেয়ার করেন → কেউ কিনলে → আপনি কমিশন পান। কোনো অর্ডার হ্যান্ডেল করতে হয় না।
ড্রপশিপিংয়ের প্রক্রিয়া (সংক্ষেপে):
কাস্টমার আপনার স্টোর থেকে কেনে → আপনি সাপ্লায়ারকে অর্ডার দেন → সাপ্লায়ার সরাসরি কাস্টমারকে শিপ করে। আপনি মাঝখানে প্রফিট রাখেন।
ফেসবুক পেজ থেকে ইনকাম করার সহজ উপায় জানতে ভিজিট করুন
কোনটা বেছে নেবেন?
- যদি কম ঝুঁকি এবং প্যাসিভ ইনকাম চান → এফিলিয়েট মার্কেটিং।
- যদি বেশি প্রফিট এবং নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করতে চান → ড্রপশিপিং।












































































































































































































































